Tuesday, 20 September 2016

পড়তা

                         “পড়তা”              

একজন বড় সরকারি আধিকারিক মিঃ সিং,দিল্লী থেকে পূজার সময় কলকাতায় বেড়াতে এসেছেন  উঠেছেন দঃকলিকাতায় এক আত্মীয়ের বাড়িতেবেশীর ভাগ পঞ্চাশত্তম বড় বড় কাজের মানুষের মতো তিনিও  নিদ্রাহীনতায় ভোগেন এবং রাত্রে জাগেন দিনে ঘুমান, তাই আর্লি রাইসারভোর চারটের  সময় উঠে তিনি বালিগঞ্জ লেকে গেলেন মর্নিং ওয়াক করতে।হাঁটতে হাঁটতে এক সময় ক্লান্ত হয়ে  একটা বেঞ্চে্ বসে পড়লেন আর বসতে না বসতেই ভোরের লেকের ঠাণ্ডা হাওয়ায় ঘুমে তাঁর চোখ জড়িয়ে গেল সবে তিনি চোখ দুটো একটু বন্ধ করেছেন, এমন সময়  অনুভব করলেন  যে কে যেন তাঁর পকেট হাতড়াচ্ছে। তিনি কাল বিলম্ব না করে হাতটা চেপে ধরলেন । তারপর  হিন্দিতে বললেন- তোমার সাহস তো কম নয়? সক্কাল সক্কাল তুমি আমার পকেটে হাত ঢুকিয়ে  কাঁচা ঘুমটা ভাঙ্গিয়ে দিলে? লোকটিও কাঁচু মাঁচু হয়ে হিন্দিতেই জবাব দিলে  – সরি স্যার ভুল হয়ে গেছে, আসলে আমি বুঝতেই পারিনি যে আপনার ঘুমটা এতো  পাতলা? তাই অসাবধান বশতঃ আপনার কাঁচা ঘুমটা ভাঙিয়ে দিয়েছি।এবার হাতটা একটু ছাড়ুন স্যার, একবার আপনার পায়ের ধুলো নিই।অনেক বছর এই কাজ করছি,কিন্তু কেউ কোন দিন আমায় ধরতে পারেনি।আজই প্রথম আপনার কাছে ধরা খেলাম, আপনি মহাপুরুষ
নিজের প্রশংসা কার না ভালো লাগে? তবু মিঃ সিং গর্জে উঠলেন-    
-But what business you have in my pocket?   
-কি যে বলেন স্যার শুধু আপনারই নয়,পৃথিবীতে যেখানে যত পকেট আছে সবই আমার বিজনেসের মধ্যে পড়ে,  মানে পকেট নিয়েই তো আমার কাজ কারবার কিনা? তবে নেক্সট টাইম কেয়ারফুল থাকব, প্রমিস করছি আর কারো কাঁচা ঘুম ভাঙাব না 
-কি নাম তোমার?কথা শুনে তো মনে হচ্ছে যে তুমি ভাল ঘরেরই ছেলে, লেখাপড়াও জান।তা হঠা এ  লাইনে এলে কেন? আর পকেট মারাটা কী স্কুলেই শিখেছ নাকি?
-আঁজ্ঞে আমার নাম বিশু।শখ করে কি কেউ এ লাইনে মার খেতে আসে?কিন্তু কি করব বলুন? ঠিক  কলেজের ফাইনাল পরীক্ষার আগে, চিট ফাণ্ডে রাখা বাবার টাকা গুলো মার গেল।আর পড়াশুনো করতে পারলাম না।তারপরেই এ লাইনে আসা।ইশকুলে নয় পকেটমারাটা আমি দস্তুর মতো এ্যাডমিশন নিয়ে কলেজে শিখেছি।
-কোন কলেজে?
-আঁজ্ঞে আমাদের কলেজের নাম IIB.ফুল নেম Indian Institute of Burglary. ওখানে আমি pick pocketing এ ডিপ্লোমা করেছি।চাকরী বাকরি তো কিছু হল না, তাই পেটের দায়ে এটাই করে খাচ্ছি  
-তাই বলে তুমি আমার পকেটে হাত ঢোকাবে? জান দিল্লীতে আমি হোমে আছি?    
    -যাঃ এটা আবার একটা কথা হল নাকি? লোকে তো হোমেই থাকে।আমিও থাকি।
-সে হোম নয়, আমি মিনিস্ট্রি অফ হোমে আছি।
-তাই বা এমনকি বড় দফতর হল?কাজ তো শুধু সরকারী হোম গুলোর দেখা শুনা করা?
 মিনিসট্রি অফ রেল হলেও তবু কথা ছিল, দুটো লোককে চাকরিতে ঢোকাতে পারতেন?   
-দুটো লোককে কাজে ঢোকাতে না পারি, তোমায় আমি জেলে ঢোকাতে পারি।      
-জানি আপনি অনেক কিছুই করতে পারেন।তবে শেষ পর্যন্ত কিছুই করবেন না।
-কি করে জানলে?    
 
-আঁজ্ঞে এটা জানা আর শক্ত কাজ কি? আমি আগেই দেখে নিয়েছি যে আপনার পকেটে কোন মোবাইল ফোন নেই।আর থানা এখান থেকে এক মাইল। আমার মত একজন ফালতু লোকের জন্য ওই মোটা শরীরে এতটা পথ  হাঁটা আপনার পোষাবে না এক কথায় পড়তা হবে না।
-what is parta?
-Parta is a calculation of profit and loss. আর এই পড়তার কথা ভেবেই লোকে অন্যায় দেখলেও  চেপে যায়, প্রতিবাদ করে না।       
-বাজে কথা রাখ।এখন থানায় চল।  
-বেশ তো চলুন না। তবে আজকে আপনার জরুরী কোন কাজ কর্ম নেই তো?  
-থানায় যাবার সঙ্গে অন্য কাজ কর্মের কি রিলেশন?
-না মানে, এমনিতে কোনও রিলেশন নেই।তবে থানা বলে কথা তো? এবলা ওবলার ব্যাপার।
-সেটা আবার কি?
-বুঝলেন না?বেশ বুঝিয়ে দিচ্ছি। এখন থানায় গিয়ে দেখবেন একজন কনস্টেবল নাইট ডিউটির শেষে টুলে বসে ঢুলছে। যদি সে আপনার কথা শোনেও তো বলবে, -বসতে হবে।অফিসারেরা এখন ব্যস্ত।বড়বাবু  এখনও নামেননি।এ বেলা কিছু হবে না, ও বেলা আসুন।  
-বললেই হল? আমি ওদের বুঝিয়ে দেব যে আমি কে?
-যারাই থানায় যায়, তারা হয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, অথবা তাদের বড় বড় চেনা পরিচিতি থাকে।এটা  নতুন কোনও কথা নয়।চৌকিদার,হাবিলদার,জমাদার থেকে অফিসাররা সকলে রোজই তা দেখেন ও শোনেন।  এবং বিশ্বাস করেন না। সুতরাং আপনাকে তারা পাত্তাই দেবেন না।ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখবেন।   
-কি আমাকে পাত্তা দেবে না? আমি আমার আই কার্ড দেখাব।
-ওরকম আই কার্ড ও সকলের কাছেই থাকে।এই দেখুন না, আমার কাছেই CBI  Inspector থেকে SBI Manager দের সব রকম আই কার্ড আছে। 
-তুমি এসব আগডুম বাগডুম বকে আমায় নিরস্ত করতে পারবেনা।তোমায় আমি পুলিশে দেবই দেব।
-তা দিন তাতে দুঃখ নেই।তবে আপনি যেমন কাজ করেন পেটের দায়ে, আমি ও তো তাই ই করি। তবে খামাখা আমায় ধরে টানাটানি করছেন কেন?
-শুধু কাজ করলেই কি হবে? কাজের ভালো মন্দের দিকটা দেখতে হবে না? তার ওপর তুমি আবার আমার সঙ্গে নিজের তুলনা করছ? আমরা কাজ করি সম্মানের জন্য, আর তোমরা কর পয়সার জন্য। বলি ব্যাপার দুটো কি এক হল?  
-না এক হবে কেন?তবে এটা তো জানাই কথা, যার যেটা নেই সে সেটার জন্যেই খাটবে। চলুন এবার  যাওয়া যাক।
খানিক দূর গিয়ে বিশু বললে-একটা কথা বলব স্যার?
-নাঃ Impossible, তোমরা বাঙালীরা বড্ড টকেটিভ, এই জন্য তোমাদের উন্নতি হয়না ঠিক আছে  বলে ফেল কি বলবে?
আমতা আমতা করে মাথা চুলকতে চলকতে বিশু বললে-   
-এই বলছিলাম আর কি স্যার, আমিতো রোজই এই সময় পকেট মারি কিন্তু ধরা পড়ি না।  তারপর  বাড়ি গিয়ে চা জলখাবার খাই। কিন্তু এখন আপনার সঙ্গে থানায় গেলে চা তো ঠাণ্ডা হয়েই যাবে, উপরন্তু দুপুরের খাওয়াটাও ঠিক সময়ে হবেনা।এদিকে আপনার বৌমাও চিন্তা করবে।তাই বলছিলাম কি?যদি  পারমিশন দেন তো বউকে একটু বলে আসি।  
-মিঃ সিং একটু চিন্তা করে বললেন –ঠিক আছে যাও, কতক্ষণে আসবে?
-এই স্যার মিনিট পনেরো লাগবে।
-ঠিক আছে যাও। দেরি করবে না কিন্তু?
বিশু হাওয়া হয়ে গেল। আধ ঘণ্টা পরেও সে আসছে না দেখে, ঘন ঘন ঘড়ি দেখতে দেখতে মিঃ সিং মনে মনে বললেন-নাঃ, বাঙালী জাতটার কোন সময় জ্ঞান নেই। এই জন্যেই এরা উন্নতি করতে পারে না। আরও আধ ঘণ্টা দেখে,রেগে মেগে দাঁত কিড়মিড় করতে করতে তিনি বাড়ির পথে পা বাড়ালেন আর মনে মনে বললেন-দাঁড়াও বাছাধন, আর একদিন তোমায় হাতে পাই তারপর দেখাব মজা।

সেই আরেকটা দিন যে এত তাড়াতাড়ি এসে পড়বে, মিঃ সিং তা ভাবেন নি।কয়েক দিন পরে আবার  লেকে মর্নিং ওয়াকের সময় বিশুর সঙ্গে দেখা হয়ে গেল।এ দিন সে হাঁটতে হাঁটতে আন্য একজন লোকের  পকেট মারছিল।মিঃ সিং তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে বললেন –“সে দিন তো খুব পালিয়ে ছিলে বাছাধন?  আজ আর তোমায় ছাড়ছি না।বলি আজ বাড়িতে বলেকয়ে বেরিয়েছ তো”?
-“হ্যাঁ তা আর বলতে? চলুন যাই কোথায় যেতে হবে”?
বিশু যার পকেট মারছিল, মিঃ সিং তাকেও অনুরোধ করলেন সঙ্গে আসার জন্য।  
 কিন্তু সে লোকটি কোনও উৎসাহ না দেখিয়ে সটকে পড়ল ।অগত্যা মিঃ সিং কি আর করেন?
বিশুকে বললেন  -“তুমি ই তাহলে  পথ দেখিয়ে থানায় নিয়ে চল”?   
বিশু বললে-“ সে তো যাবই,  তবে আপনি বারবার ঘুরেফিরে শুধু আমাকেই ধরছেন কেন বলুন তো”?     
-“বাঃ বেশ কথা? তুমি একটা unlawful কাজ করবে? রাস্তা ঘাটে লোকের পকেট মেরে বেড়াবে?
আর তোমায় ধরলেই দোষ”?  
-“ না দোষ গুণের কথা নয়, তবে আইনটা সকলের জন্যই সমান হওয়া উচিত। যে লোক গুলো চিট  ফান্ডের নামে আমাদের পকেট মারল, তাদের ধরছেন না কেন”?
-“ ধরা তো হয়েছে, প্রমান হলেই সাজা হবে”।
-“প্রমাণটা আর সাজাটা আমাদের মতো গরীবদের ই হয়।বড় লোকেরা সব ছাড় পেয়ে যায়।
আচ্ছা চলুন এখন থানায় যাওয়া যাক”? 
   খানিকটা পথ চলার পর, মি সিং হঠা দাঁড়িয়ে পড়ে বললেন-“ শোন বিশু সেদিন আমি তোমার জন্য     
   এক ঘণ্টা এখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম, আজ তুমি দাঁড়াবে। আমি বাড়ি চললাম চা খেতে। তারপরই মত 
পরিবর্তন করে বললেন, না তোমায় জেলে না ঢুকিয়ে আমি চা কেন জল ও খাব না”।
থানায় পৌঁছে মিঃ সিং বুঝলেন যে এখানে বিশুর যাওয়া আসা আছে।সবাই তাকে চেনে।
বিশুর আন্তরিক প্রচেষ্টায় ঘণ্টা খানেক পরে একজন থানা অফিসার ওদের নিয়ে কেস ডায়রি লিখতে বসলেন।প্রথমেই তিনি জানতে চাইলেন যে “কেস টা কি”? আর কোথায় কখন হয়েছে”?   
মিঃ সিং গম্ভীর গলায় বলতে শুরু করলেন-“দু তিন দিন আগে ভোর বেলা বালিগঞ্জ লেকের একটা বেঞ্চে ঘটনাটা ঘটেছে। মর্নিং ওয়াক করে টায়ার্ড হয়ে, সেখানে বসে যখন আমি ঘুমচ্ছিলাম, তখন এই লোকটা মানে ছেলেটা আমার পকেটে হাত দিয়ে ছিল”।
থানা অফিসার হাতে রুল নাচাতে নাচাতে বললেন-“আপনার বক্তব্যের মধ্য অনেক অসঙ্গতি রয়েছে।এভাবে তো কেস সাজান যাবে না।প্রথমত লেকটা সাত মাইল লম্বা, এবং এর মধ্যে তিন তিনটে থানার ভাগ আছে। সুতরাং ঘটনাটা ঠিক কোথায়?I mean লেকের কোন পাড়ে, কত নম্বর বেঞ্চে,কোন গাছ তলার নীচে  ঘটেছিল? কবে ঘটে ছিল? তারপর যে আপনার পকেটে হাত ঢুকিয়ে ছিল, সে ছেলে না লোক এ সব কিছুই আপনি ঠিক করে বলতে পারছেন না। তারপর আপনি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে একে identify ই বা করলেন কি ভাবে”?আর কোনও witness ছিল কি? এ সব না জেনে তো কেস ডায়রি লেখা যাবে না।শুধু তা ই নয় পকেটে হাত ঢোকানটা তো কোন crime  নয়।কিছু নিয়ে ছিল কি”? বিশু এতক্ষণ শান্তশিষ্ট ল্যাজ বিশিষ্ট ভ্যাবা গঙ্গারাম হয়ে বসে ছিল। এবার সে নড়ে চড়ে বসে মুখ খুলল-“ বলি নেবার মতো কিছু থাকলে তো নেব? ছিল কটা ATM card, কটা credit card, একটা আই কার্ড, কিছু খুচরো  পয়সা আর গার্ল ফ্রেন্ডের একটা ছবি”।  
-“ওটা গার্ল ফ্রেন্ড নয় আমার বৌ এর ছবি। কিন্তু তুমি এসব জানলে কি ভাবে”?
-“কেন মানি ব্যাগটা বের করে?তারপর নেবার কিছু নেই দেখে যেই ব্যাগটা যথা স্থানে রাখতে গেছি আপনার ঘুম ভেঙ্গে গেল, আর অমনি আপনি আমায় ধরে ফেললেন।আসলে Institute এ আমাদের তো  শুধু মারাটাই শেখান হয়, ফেরত টা শেখায় না, তাই ফেরৎ  দিতে গিয়ে ধরা পড়ে গেছি।        
   থানার অফিসার বললেন –“আপনার পকেট থেকে ও যদি কিছু না ই পিক করল, ওকে আমি পিক
পকেটিং এর চার্জে এ্যারেসট করি কি করে”?    
মিঃ সিং এর গাম্ভীর্য একদম তলানিতে গিয়ে ঠেকলেও শেষ বারের মতো তিনি বলার চেষ্টা করলেন
- কিন্তু সে দিন যা হোক হয়েছে, আজও কিন্তু এ লেকে একজনের পকেট মারার চেষ্টা করছিল”।
অফিসার বললেন-“ এই দেখুন আবার সেই অসঙ্গতি?একজন মানে কে? কি তার নাম? কোথায় থাকে?এ সব না জানলে কি করি? তাকে সঙ্গে করে আনলেন না কেন? তারপর কোন থানা এরিয়ায় ঘটেছে ব্যাপারটা?সেটাও জানা দরকার। এরপর অফিসার মুখ গম্ভীর করে কি ভাবলেন, তারপর বললেন- এ কেসের মাথা মুণ্ডু কিছুই আমি বুঝছি না। অথচ যার সঙ্গে আপনি এসেছেন, তাতে আপনাকে যেতেও  বলতে পারছি না।অন্য কেউ হলে যাহক একটা কিছু বলে দিতাম।কিন্তু আপনাকে আমি কি বলি বলুন তো? ঠিক আছে আপনি এক কাজ করুন,বাইরে গিয়ে, একটা সাদা কাগজে নিজের নাম ঠিকানা আর যা  যা ঘটেছে সব কিছু লিখে জমা দিন।আর হ্যাঁ ভালো কথা, সে দিনও কি আপনি এই প্যান্টটাই পরে ছিলেন?     
-“হ্যা, কেন বলুন তো”?
-“ওটা লাগবে। কারন পকেটটা যেহেতু প্যান্টেরই পার্ট।তাই court এ ওটা exhibit   করতে হবে।   প্যান্টটা খুলে  চিঠি  আর মানি ব্যাগটা থানায় জমা দিয়ে রসিদ নিয়ে যাবেন।কেস যতদিন চলবে জিনিষ গুলো এখানেই জমা থাকবে।যান এখন বাইরে গিয়ে বসুন।  বড়বাবু নামলে পর আপনাদের ভ্যানে বসিয়ে অকুস্থলে নিয়ে গিয়ে ব্যাপারটা reconstruct করে বোঝার চেষ্টা করব”।    

প্যান্ট খুলে দিতে হবে শুনে, মিঃ সিং এর সব গাম্ভীর্য এক কথায় উবে গেল।তিনি কেমন যেন বোকা বোকা  হয়ে গেলেন। ভাবলেন প্যান্ট খুলে বাড়ি ফেরাটা,তার উপর আত্মীয়ের বাড়ি ফেরাটা কোনও কাজের কথা  নয়।তারপর এখানে বেশিক্ষণ বসে থাকলে পরিচয় পত্রের আসল পরিচয়টাও ফাঁস হয়ে যেতে পারে। ক’দিনের জন্য বেড়াতে এসে এ সব ঝামেলায় না পড়ে, এখন এখান থেকে মানে মানে  কেটে পড়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। একরকম ছুটেই তিনি থানা থেকে বেরিয়ে, সোজা বাড়ির পথে হাঁটা দিলেন।         

তাকে দেখে বিশু মনে মনে হেসে বললে- লোকটা এতক্ষণে পড়তা কথাটার মানে বুঝল”।       
১৭/০৯/২০১৬          
  
                                                           

            

Friday, 26 August 2016

ফ্রাইং প্যান টু ফায়ার

                                                      ফ্রাইং প্যান টু ফায়ার        

রামু জন্মেছিল উত্তর প্রদেশের এক পাহাড়ি গ্রামে।চার ভাই বোনের মধ্যে সে সব থেকে ছোট হওয়ায় তার খাওয়াদাওয়া তেমন খুব একটা ভাল জুটত না।ফলে একরকম প্রায় নেচে কুঁদেই বাড়ছিল  সে তবে একটু বড় হতে যখন সে পাহাড়ের ঢালে, আশেপাশের গাঁয়ের বন্ধুদের সাথে মিলে,খেলে বেড়াতে লাগল তখন আর তার খাদ্য সমস্যা থাকল না সেই সব দিন গুলো রামুর বেশ আনন্দেই কাটছিল।তবে সে লক্ষ্য করত যে হঠা হঠাতার খেলার সাথীরা কেউ কেউ হারিয়ে যাচ্ছে, আর ফিরছে না। তারা কোথায় যায়? আর কেনই বা  ফেরে না ? এসব প্রশ্নের উত্তর সে কোন দিন কারো কাছে পায়নি। অবশেষে একদিন সে নিজেও হারিয়ে গেল। সে হারিয়ে গেল বলার থেকে বরং বলা ভাল যে, তাদের সেই ছবির মতো সুন্দর গ্রাম, ঘাসের গালিচা পাতা সুন্দর উপত্যকা, টিনের চাল আর পাথরের দেয়ালের সুন্দর  সুন্দর বাড়ি গুলো, তার জীবন থেকে জীবনের মতো হারিয়ে গেল। নিজেকে সে আবিষ্কার করল কলকাতার খিদিরপুরের এক গলিতে। এখানকার জীবনের সঙ্গে তার উত্তর প্রদেশের দিন গুলোর অনেক ফারাক। এখানে স্বাধীনতা বলে কিছু নেই, তার উপরে থাকতে হয় অনেকের সঙ্গে সেয়ার করে ছোট্ট একটা খুপরিতে এক কাকু ওদের, মানে ও আর ওর বন্ধুদের রোজ সকালে গড়ের মাঠে বেড়াতে নিয়ে যায়। সারাটা দিন তারা সেখানেই দৌড়া দৌড়ী খেলাধুলো করে কাটায়, খাওয়াদাওয়া ও সেখানেই সারে। তারপর সন্ধ্যার সময়  দল বেঁধে রাস্তার পর রাস্তা পার হয়ে ডেরায় ফিরে আসে। এই রাস্তা পার হওয়ার ব্যাপারটা রামুর একদম ভালো লাগেনা। দৈত্যের মতো বড় বড় বাস গুলো দেখলে ওর ভীষণ ভয় করে। কিন্তু এখানেও সে এসে থেকেই  লক্ষ্য করছিল যে, তাদের  বন্ধুদের  দল থেকে রোজই কেউ না কেউ  হারিয়ে যাচ্ছে। তারা কোথায় যে যাচ্ছে?কেনই বা আর ফিরে আসছেনা তা জানা যাচ্ছে না অবশেষে একদিন ভোর রাত্রে আধো ঘুমে তার মনে হল ক’জন লোক মুখে কাপড় বেঁধে, তাদের ঘরে ঢুকে এক একজন কে মুখ চাপা দিয়ে তুলে নিয়ে যাচ্ছে।এই দেখে আতঙ্কে সে চিৎকার করে উঠে উঠলকিন্তু তাতে লাভ কিছুই  হল নাএরপর প্রায় প্রতি দিনই ভোরে সে ঐ একই দৃশ্য দেখতে লাগল শেষে একদিন আর থাকতে না পেরে,  গড়ের  মাঠে বেড়াতে বেড়াতে তার এক বন্ধুকে  বলল –“জানিস তো রাত্রে আমরা যখন ঘুমাই তখন ক’জন জল্লাদ এসে আমাদের বন্ধুদের তুলে নিয়ে যায়।  তার পরে তাদের আর দেখা পাওয়া যায়না”।বন্ধুটি বললে –“এতো পুরন খবর। তুই এতদিনে  জানলি”?  
-“কিন্তু ওই লোক গুলো কারা? আর কেনই বা বিনা কারনে আমাদের বন্ধুদের  ধরে নিয়ে যায়”?
-“বিনা কারনে কেন হবে রে? তারা নিশ্চই খারাপ কাজ কিছু করে  ছিল? তাই  তো  তাদের  ধরে নিয়ে গিয়ে শাস্তি দিয়েছে”। 
-“কিন্তু ওরা তো সব সময় আমাদের সঙ্গে সঙ্গেই ঘুরত। তাহলে  খারাপ কাজটা করলে  কখন"?
-“এ জন্মে না করলেও গতজন্মে করেছিল হয়ত? কিংবা ওর বাবা মা বা ভাই বনেরাও করে থকতে পারে”?
-“তার জন্যে এদের শাস্তি পেতে হবে”?   
-“এটাই তো চলছে এখানে জেনে রাখ একদিন আমাদেরও ওরকম  শস্তি পেতে হবে”। রামু তখন ঠিক করল যে এখানে আর থাকা ঠিক   নয়। যে করেই হ’ক পালাতে হবে। সন্ধ্যার সময় গড়ের মাঠ থেকে ফেরার পর,রাস্তায় লোকজন বিশেষ থাকে না। তখনই যা হয় কিছু  করতে হবে। এক সন্ধ্যায়, ফাঁক বুঝে রামু তাদের ডেরা থেকে একছুটে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে পালাতে গেল। কিন্তু সামনে পড়ল দৈত্যাকৃতি এক বাস।ব্যাস, রামুর আর পালান হল নাভয় পেয়ে ব্যা.এ্যা এ্যা করে বিকট এক ডাক ছেড়ে, একছুটে সে আবার তার পুরন বাসাতেই আবার ফিরে গেল। এই দেখে রাস্তার  একজন লোক হেসে আরেকজন কে বললে-“দেখলি তো ছাগলটার বুদ্ধি ? আরে তুই ছাড়া পেয়েছিস, ব্যাটা  পালিয়ে বাঁচ ? তা নয় ব্যাটা বাস দেখে ভয় পেয়ে ভির্মি খেয়ে ঢুকল  গিয়ে আবার সেই কষাই খানায়, জবাই হতে”।    
-“ছাগল নয়রে ওটা মুলতানী পাঁঠা। মানুষের ভোগের জন্যেই তো  ওদের জন্ম। আর পালিয়েই বা যাবে টা কোথায়? যেখানে যাবে সেখানেই লোকে ধরে তাকে কেটে খাবে ভোগের জিনিষ ভোগে লেগে যাবে”।     
তাকে তখন পুরোপুরি সমর্থন জানাল একটি মেয়ে, যে সেই সময় সেজে  গুজে লাইট পোস্টের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল,বললে -  “একদম ঠিক বলেছেন আপনি।আমাদের পালাবার কোন যায়গা  নেই পালাতে গেলেই ফ্রাইং প্যান টু ফায়ার হ্যে যাবে”।       

   তরুণ কুমার বন্দ্যপাধ্যায়।   ১৬ই ভাদ্র ১৮২৩ সন                                                        

Sunday, 21 August 2016

ছিন্ন মূল (৪)

 রঘু কাকা  চলে যেতে অতসী  দু টাকার পেটা পরোটা ঘুগনি আর জিলিপি কিনে  চলল নদীর পাড়ে। খেয়া ঘাটের কাছে হেলে পড়া বটগাছ তলায় ওর একটা প্রিয় জায়গা আছে।  হাটবারে হাটবারে ওখানে  বসেই ও  টিফিন করে।  তবে আজকে কিন্তু সেটা হ’ল না। গাছটার কাছে এসে দেখে যে ওর জায়গায় অন্য  কে একজন বসে ।  অন্যমনস্ক ভাবে একটু দূরে গিয়ে আন্য একটা গাছ তলায় গিয়ে বসল ও তারপর আজ সকাল থেকে ওকে ঘিরে যা যা ঘটেছে তা রোমন্থন করতে লাগলো আর অন্যমনস্ক ভাবে দেখতে লাগলো নদী বক্ষের দৃশ্য মাঝ নদীতে গদাইলশকরি চালে হেলতে দুলতে ভেসে যাচ্ছে খড় বোঝাই বড়  বড় বজরা। দাঁড় টেনে দ্রুত গতিতে চলে যাচ্ছে ছোট ছোট ছিপ নৌকোএখানে  সেখানে জাল ফেলে মাছ ধরছে জেলে নৌকো গুলো।জলের বুকে খোলা আকাশের ছায়া পড়ছে,  নীল আকাশের বুকে ভেসে বেড়াচ্ছে সাদা রং এর তুলোট মেঘ। থেকে থেকে ডেকে উঠছে গাঙ চিলেরা। লম্বা লম্বা পা ফেলে নদীর পাড়ে মাছ খুঁজে বেড়াচ্ছে বকের দল। কেউ কেউ আবার এক ঠ্যাঙে ধ্যান করছে জলের দিকে তাকিয়ে। ছোট ছোট ছেলেরা গাছের ডাল থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ছে নদীর বুকে।ঠাণ্ডা  বাতাস ভেসে আসছে নদীর বুক থেকে। অন্য দিন এসব দৃশ্য ও বেশ তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ  করলেও আজ কোথায় যেন বার বার তাল কেটে যাচ্ছে।  আসলে ওই ঘটক আর রমার কথা গুলোই ঘুরে ফিরে মনে পড়ছে তার। হাতের খাবার গুলো সে কখনও  খাচ্ছে, কখনও বা অন্যমনস্ক হয়ে জলের দিকে তাকাচ্ছে খাওয়া শেষ হতে, হাতে ধরা শাল পাতার ঠোঙাটা দলা পাকিয়ে ফেলে  দিয়ে,গাছের গায়ে হেলান দিয়ে কিছুক্ষণ হাল্লাক হয়ে বসল সে। তারপর উদাস হয়ে আবার ভাবতে লাগল  নারী জীবনের অভিশাপের কথা। সেই যেদিন থেকে সে ডাগরটি হয়েছে পুরুষের দৃষ্টি তাকে বিরক্ত করে মারছে। বয়সের কোন বাছ বিচার নেই।সে যেন সকলেরই লালসার বস্তু, চলমান একটা খাদ্য বিশেষ। সবে তো তার উনিশ কি কুড়ি বছর বয়স। বাঁচতে হবে এখনও অনেক বছর। তা কি এই ভাবে ? বিয়েটাই কি একটা মেয়ের জীবনের শেষ কথা ? না হলে কি তাকে পদে পদে অপদস্ত হতে হবে ? একজন পুরুষ যদি এই সমাজের বুকে বিয়ে না করেও মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে, তবে একটা মেয়েই বা তা পারবেনা কেন ? কেনই বা শুধু শুধু তার নামে বদনাম রটান হবে ? ঠিকই বলত  মা, সংসার বড় শক্ত ঠাঁই। এখানে একা এক মেয়ে মানুষের শান্তিতে বাঁচা দায়। একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে সে অন্যমনস্ক ভাবে হাত বাড়াল তার সর্বক্ষণের সঙ্গী  খেলনা বেহালাটার দিকে। মায়ের যে প্রিয় গানটি মা মাঝে মঝে বাজাত,এই মুহূর্তে সেই গানের সুরটি ই  তার কানে বাজছে সে সেটাই বাজাতে লাগল-“উথালী পাথালী আমার বু.উ.উ..উ..ক,আ মা.আ আ র মুনেতে নাইসু.উ.উ..উ খ  রে।ও আমায় ডুবাইলি রে, আমায় ভাসাইলি রে......। অকুল দরিয়ার বুঝি কুল নাই রে। একাকী বিষণ্ণা নারী  অতসী, নদী তীরে তার নিজের সৃষ্ট সুরের মূর্ছনায় সে নিজেই তন্ময় হয়ে হারিয়ে গেল তার আশেপাশে  কি যে  ঘটছে  তা নিয়ে তার কোন হুঁশই নেই। সম্বিত ফিরল বাঁশির সুরে। চমকে উঠে  মুখ তুলে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল, ওর সেই প্রিয় জায়গাটায় বসে এক যুবক ওর গানেরই সুরে বাঁশি  বাজাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে সে তার বাজনা থামিয়ে দিল। নারীর সহজাত বুদ্ধি বিবেচনা তাকে সাবধান করে দিল। আজ হাটবার, একশ একটা বাজে লোক ঘুরছে চেনা নেই শোনা নেই অচেনা এক ছোঁড়ার সঙ্গে সে নদীর পাড়ে গাছ  তলায় বসে  বাজনার যুগলবন্দী করছে। এই খবরটা চাউর হলে গাঁয়ে গাঁয়ে এক্ষুনি ডি ডি পড়ে যাবে।  কিছু না করেই যখন তার বদনাম রটছে,আর এটা একবার রটলে তো আর দেখতে হবে  না।  সে আর কাল বিলম্ব না করে উঠে পড়ল। ত্রস্ত পায়ে হাঁটা দিল হাটের পানে।অতসী বাজনা বন্ধ করার  সাথে সাথে যুবকটিও তার বাঁশি বাজান বন্ধ করে দিয়ে উঠে পড়েছিল, এবার অতসীকে উঠতে দেখে,   সে এগিয়ে এলো। কাছে এসে হেসে বলল –কোথায় বাড়ি গো তোমার ?বেড়ে হাত ত তোমার? মাত্তর  একটা মাটির খেলনা তুমি যে এতো সুন্দর করে বাজালে, নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বেস হতনা। কার কাছে শিখেছ?  অতসী গম্ভীর গলায় বিরক্তির সঙ্গে জবাব দিল আমার মায়ের কাছে।  সর দিকিনি বাপু, এবার আমায় যেতি দাও দেখি ? ছিষ্টির কাজ পড়ে আছে। ছেলেটি তেমনি হেসে বললে- ঠিক আছে যাও। তবে আমি কিন্তু এগাঁয়ের লোক নই। নদীর জলে ভেসে এসেছি ওই যে দেখছ ওই  নৌকাটা, ওটাই আমার ঘরওতে চেপে আমি দেশবিদেশে ঘুরে বেড়াই। যখন যেখানে ইচ্ছা হয়  দুএক মাস থাকি, তারপর আবার বেরিয়ে পড়ি। এখন এখানে আমি ক’দিন এই গাছ তলাতেই  থাকব। সময় পেলে এসো, দেশবিদেশের গল্প শোনাব।আর তোমার ওই মাটির ব্যায়লাটাও সঙ্গে এনো। গান শুনব”। অতসী বললে-“ হুঁঃ আমার আর খেয়ে দেয়ে কাজ নেই  তোমায় গান শোনাতে আসি, সর তো বাপু ঢের কাজ পড়ে আছে,  যেতি দাও। অতসী হন হন করে হাঁটা দ্যে ফিরে এলে আবার  হাটে। এখানে সেখানে  দুএকটা দোকানে তোলা কিছু কাজ করে দিয়ে, নিজের বেচাকেনার জিনিষ আর আনাজপ্ত্র গুলো তার  ঝুড়িতে ঝোলায় ভোরে, সন্ধ্যার মুখে হাঁটা   দিলে গাঁয়ের পানে।                    

Monday, 1 August 2016

ছিন্ন মুল(২)

পূবাকাশ লাল করে ভোরের সূর্য সবে উঠছে ।মাঘ মাসের  বাতাসে  ঠাণ্ডা শির শিরিনি ভাব। সুন্দর সুবাসে মথিত বনভূমি,  গাছে  গাছে পাখি ডাকছে , ছানা পোনা নিয়ে মুরগীরা বেরিয়ে পড়েছে পোকার  খোঁজে। গলা লম্বা করে ডানা ঝাপটে কোঁ কোঁর কোঁ করে  ডেকে উঠছে মোরগ গুলো। মেঠো পথের ধূলো ভোরের শিশিরে ভিজে জমাট বেঁধে আছে জায়গায় জায়গায় হাল্কা কুয়াশায় ঢাকা পথের ধারে আকন্দের  ঝোপে শিশিরে ভেজা মাকড়সার জাল,  আলো পড়ে রামধনু রঙে ঝকমক করছে ।  অতসী ওর  মায়ের মতো খেলনা  বেহালা হাতে বেরিয়ে  পড়েছে গাঁয়ের পথে ফেরি করতে।  এখন ও বাজাচ্ছে  একটা প্রচলিত লোক গীতি-“  বলি ও ননদী আর দু মুঠো চাল ফেলে দে হাঁড়িতে ......”,  বাঁয়ে পড়ল মোড়লদের বড় পুকুর। এই শীতের  ভোরেও অনেকে চান করতে জলে নেমেছে  তার সঙ্গে পুকুর ঘাটে বাসন মাজা কাপড় কাচা চলেছে। অতসীর কানে এল মেয়েলি গলায় কে একজন বলল- “মেয়েটার দিষ্টি দেখেছ, ঠিক যেন সাপের চাউনি”।  ব্যাস অমনি শুরু হয়ে গেল ওকে নিয়ে কথা।  
-“হবে না ? কার মেয়ে বল ? বলি আম গাছে কি জাম ফলে ? ডাইনির মেয়ে তো ডাইনীই হবে”?  
-“হ্যাঁ গো দিদি যা বলেছ তাই,  আমার বাপের বাড়ি জামরুল তলায়ও অমনি একজন ছ্যালো। সে  পোয়াতি  মেয়ের পেটে বাচ্ছা দেখতি পেত,মানসের শরীলে অক্ত চলছে  দেখতি পেত, কচি ছেলে মেয়ের অক্ত চুষী খেত তা সে ঝ্যাখন মোল, একটা বেড়াল কে ডাইনী বাইনে গেল, তা সে বেড়ালটাও...
-“ আঃ তুই থামবি মানদা? বলি সক্কাল সক্কাল এইসব অলুক্ষুনে কথা গুলো কি না বললেই নয় গা”? মুখ ঝামটা দিয়ে বলে উঠলেন মোড়ল গিন্নী। অতসী শুনে ও না শোনার ভান করে এগিয়ে চলল। ডাইনে পড়ল  বিশ্বাস বাড়ি। প্যাঁক  প্যাঁক করে এক দল পাতিহাঁস হেলতে দুলতে সার বেঁধে, ওর সামনে দিয়ে রাস্তা পার হয়ে পুকুরে নেমে গেল। বিশ্বেস মাসীমা রান্নাঘরের জানালা দিয়ে  ডেকে বললেন-“ও অতসী ওবেলা এক  গোছা পান দিয়ে যাস তো মা, ফুরিয়ে গেছে”।  মুচকি হেসে ঘাড় নেড়ে, হ্যাঁ বলে এগিয়ে চলল সে। বাঁয়ে পড়ল  মুখুজ্যে বাড়ি। বেড়ায় হাত দিয়ে ছোট বৌটি দাঁড়িয়ে ছিল অতসীর অপেক্ষাতেই, ওকে দেখে বললে-“ও অতসী আমচুর আর নেবুর আচার দিয়ে যাস তো লো  ”? বৌটা ওর সমবয়সী, বছর খানেক হ’ল বিয়ে হয়েছে। অতসী মুখ টিপে হেসে  বললে –“ও খোকা হবে বুঝি”? সলজ্জ হেসে বউটি পালাল ত্রস্ত পায়ে।  এগিয়ে চলল অতসী তার খেলনা  বেহালায় সুর তুলে কুমোর পাড়ায় ঢোকার মুখে দূর থেকে শুনতে পেল  ঠপ্ ঠপাঠপ কাঁচা কলসি পেটানর শব্দআর সেই সঙ্গে শোনা যাচ্ছে মাটির দাওয়ায়  বসে,     ম্যালেরিয়া রোগে শীর্ণ হাড় জিরজিরে , মনটু্র সুর করে পড়া কবিতা। কুমোর পাড়ার গোরুর গাড়ী  বোঝাই করা কলসী হাঁড়ি.........বেহালার সুর শুনে, পড়া থামিয়ে সে হেসে  বললে –“কি রে দিদি  এনেছিস?” বেহালা থামিয়ে অতসী হেসে বললে-“না রে পাই নি”।  অভিমানের সুরে মনটু্ বললে –“ভারী  দুষ্টু তুই অতসী দিদি, আজও আনলি না আমার কুলের আচার”। অতসী বললে –“কী করব রে ভাই, পাচ্ছি না যে?”  তারপর তার গাল টিপে আদর করে বলেল –“  রাগ করিসনে  ভাই , পেলেই এনে দেব”  আসলে ইচ্ছে করেই অতসী এড়িয়ে যাচ্ছে তার কুপথ্যের  বায়না।  আবার এগিয়ে চলল অতসী বেহালা বাজিয়ে। পিছনে পড়ে রইল ঘূর্ণায়মান কুমোরের চাকে মাটির হাঁড়ী কলসি পণের ধোঁয়া  আর  মনটু্র সুর করে পড়া  -  কুমোর পাড়ার গোরুর গাড়ী ......। পথের  ধারে বিষ্টু  মাষ্টার একটা খাম হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ওকে দেখে বললেন-“ ও অতসী  হাটে যাচ্ছিস ? তা এই চিঠিটা একটু ডাকবাক্সে  ফেলে দিস তো মা”। অতসী হাসি মুখে হাত বাড়িয়ে খাম টা নিয়ে নিল। তারপর এগিয়ে চলল সে, এখনও তাকে যেতে হবে অনেকটা পথ।সামনে কামার পাড়া, দূর থেকে ভেসে আসছে একটানা ঠুং ঠুং ঠ্যাং ঠ্যাং ঠক ঠক শব্দ। কামারেরা কামারশালে হাপর টেনে হাতুড়ি পিটে কাস্তে দা, কুড়ুল লাঙল, গোরুর গাড়ির চাকা বানাচ্ছে। অতসী কাছে আসতেই নিতাই কামার বললে –“ ও অতসী হাটের পালান হাজরাকে শুধস তো আমার মাল গুলো এলো কিনা”?
তার পাশে উবু হয়ে বসা বৃদ্ধ কামার হরিহর, এক মুখ পাকা দাড়ি গোঁফ এর ফাঁকে হুঁকো টানতে টানতে কাঁপা কাঁপা গলায় বললে –“ আর কত দিন একা একা ঘুরবি রে অতসী ?  এবার একটা বে থা কর না”?  অতসী দাঁড়িয়ে পড়ে বললে –“ কি যে বল না তুমি ঠাকুরদা, কে করবে আমায় বে ? থাকি তো জঙ্গলে, তায় ডাইনি বুড়ির মেয়ে”? হরিহর হাসতে হাসতে  বললে –“ তা  যদি বলিস তাহলে আমিই না হয়...”।
-“ থাক তোমায় আর উবগার করতে হবে নাবলি দুদিন পরে তো  তুমি এমনিই পটোল তুলবে, আর  মাঝখান থেকে  বদনাম হবে আমার। লোকে বলবে ওই ডাইনি রাক্ষুসীটাই খেয়ে ফেলেছে ওকে”হাসতে  হাসতে পা বাড়াল অতসী। নিজের বিয়ে নিয়ে ও লোকের সঙ্গে যতই হাসি মস্করা করুক না কেন? বিয়ের যে একটু যে ইচ্ছে  হয় না তা নয়। বিশেষ করে মা চলে যাবার পর থেকে নিজেকে বড় একা একা লাগে ওর তবে সত্যিই তো কে করবে ওকে বিয়ে ? মায়ের খুব ইচ্ছে ছিল ওর বিয়ে দেয়।ওর বয়স যখন বছর পনে্র, সেই সময় একটা ঘটনার পর মা ওকে বলেছিল-“ অতসী এবার তুই একটা বিয়ে কর।আমার কিছু একটা হয়ে গেলে,তখন তুই একেবারে একা হয়ে পড়বি। তখন এখানে একা তুই বাঁচবি কীভাবে, দেখলি   তো  অসভ্য বখাটে ছেলে গুলো কিরকম নোংরা টিটকিরি দিল”?  ও বলেছিল –“ গায়ে তো আর ফোস্কা পড়ে নি মা”?  কিন্তু জবাবটা আমি কেমন দিলাম  বল”? হ্যাঁ সত্যি সেবার একেবারে মুখের মতো জবাব দিয়ে ছিল ওমা ও বুঝেছিল যে ওকে সে যতটা কাঁচা মেয়ে ভাবে, অতটা সে নয়। বরং তার  থেকে  ঢের  বেশী চালাক ঘটনাটা ঘটে ছিল একটা ভিন গাঁয়ের মাঝ মাঠে। সন্ধ্যার মুখে তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে মাঠ ভেঙ্গে ওরা মা মেয়েতে ঘরে ফিরছিল। ঠিক মাঝ মাঠে একটা ক্লাব ঘরে ক’টা ছেলে বসে আড্ডা দিচ্ছিল। সন্ধ্যার সময়ে ওদের দুজন  কে দেখে তারা হৈ হৈ করে উঠল। কয়েকজন আবার মুখে আঙুল গুঁজে সিটিও মারল। একটি ছেলে অঙ্গ ভঙ্গী করে বললে –“বলি এদিকে কোথায় যাচ্ছ গো তোমরা ? এস না রাতটা আমাদের এখানে কাটিয়ে যাও না”? অতসীর মা ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে হিশ হিশ করে বলেছিল –“তাকাস না ওদের দি্কে”তারপর শক্ত হাতে ওর হাতটা ধরে বলেছিল-“পা চালিয়ে চল”। অতসী কিন্তু পালায় নি।মায়ের হাত ছাড়িয়ে, তাদের দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে সমান তেজে জবাব দিয়ে ছিল –“ আপনারা আমাদের বাবা ভাই গুরুজন, অসহায় গরীব মেয়ে মানুষদের রক্ষাকর্তা। তা রাতের আশ্রয়টা  যখন দিতে  চাইছেন সে তো ভাল কথা। তা এখানে কেন? সাহস থাকে তো বাড়িতে নিয়ে চলুন না”? ছেলে গুল রনে ভঙ্গ দিয়ে ছিল। অতসীর মা বুঝে ছিল ওকে নিয়ে আর কোন চিন্তা নেই। এ মেয়ে পারবে নিজেকে একা  সামলাতে। মায়ের কথা মনে পড়লে এখনও ওর চোখে জল এসে যায়। আঁচলে চোখ মুছে এগিয়ে চলল ও।                          ক্রমশঃ

Monday, 18 July 2016

ছিন্নমূল (১)

                              ছিন্নমূল (১)
দাউ দাউ করে জ্বলছে বনআর গল গল করে ধোঁয়া বের হচ্ছে ওর ঘরের জানালা  দরজা দিয়ে
কারা সব হৈ হৈ করে লেগে পড়েছে ওর ঘরের চারিধারে বনে আগুন লাগাতে
ভীষণ ভয় পেয়ে চিৎকার করে ঘুম ভেঙ্গে উঠে বসল অতসী। দরদর  করে ঘামছে,  আর গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।  ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এই একি রকম দুঃস্বপ্ন ও প্রাই দেখে ।   
গাঁয়ের একেবারে শেষপ্রান্তে, বনের মাঝে তাল পাতায় ছাওয়া অতসীর ঘর। অতসীর ঘর না বলে ,   ওর মায়ের কুঁড়ে বললেই ঠিক বলা হত। ওর মা আর ও  দুজনে মিলে থাকত এই হেলে পড়া মাটির ঘর খানায়।  লোকে বলত অতসীর মা নাকি ডাইনি বিদ্যে জানে। তাই ছোটর থেকেই ওর  ভয় ছিল যে, কোন না কোন দিন  গাঁয়ের লোকেরা ওদের পুড়িয়ে মারবে। সেই আশঙ্কা থেকেই বার বার এই দুঃস্বপ্ন দেখা। কিন্তু ও বা ওর মা, কোনদিন কারও কোন ক্ষতি করেনি। পারলে সাধ্য মতো  উপকারই করেছে তাই সজ্ঞানে ও কখনো  ভাবেনি যে বাস্তবে সত্যি সত্যিই একদিন এমনটা ঘটবে, ওদের ঘরে কেউ আগুন দেবে  
অতসীর মা  একটা তারের খেলনা বেহালা বাজিয়ে গাঁয়ে গাঁয়ে ঘুরে হাল্কা পলকা জিনিস পত্র, এই  যেমন  বচ্চাদের খেলনা, মেয়েদের চুলের কাঁটা,  চিরুণী, আয়না, সেফটিপিন,  বটতলার বই প্ত্র- ছোটদের রামায়ন, মেয়েদের ব্রতকথা ,ধারাপাত, এই সব ফেরি করে বেড়াত। আর তার পিছু পিছু  নাচতে নাচতে খেলে বেড়াত অতসী। একটু বড় হতে সে জিজ্ঞাসা করেছিল তার মাকে-“ হ্যাঁরে মা তুই সত্যিই কি ডাইনি বিদ্যে জানিস নাকি রে”?
মা ওকে আদর করে বলেছিল-“ দূর পাগলী,সে বিদ্যে জানা থাকলে আমি কি আর খেটে খাই? না  আমাদের এমন দশা হয়? নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যায়। ছেঁড়া পুরন কানি পরে ঘুরতে হয়”?  
–“ তাহলে ওরা যে বলে”?
-“ বলুক, আসলে দুষ্টু লোকেদের দূরে রাখতেই বলেছি যে আমার ঘরের ধারে দেখলে, তোদের হাড় মাস চিবিয়ে, রক্ত চুষে খাব। সেই থেকেই রটে গেছে  যে আমি নাকি ডাইনি। আমি ম’লে তুই  ও অমনি ডাইনি সেজে থাকবি। দেখবি কেউ বিরক্ত করতে সাহস পাবে না।
বনের মাঝে অতসীদের ঘর, ছোট থেকেই অতসী ঝোপে জঙ্গলে জলার ধারে একা একা ঘুরে বেড়ায়নিজের মনে কথা কয়, গান গায়। গাঁয়ের লোকে বলে, এক রত্তি মেয়েটার কাণ্ড  দ্যাখ? সাহস ও বলিহারি, আর ওর মায়ের আক্কেলটাই বা কি? অতটুকু একটা বাচ্চাকে  কি অমনি করে  ছেড়ে  দিতে হয়? কেউ কেউ বলে সাহস হবে  নাই বা কেন?কার মেয়ে দ্যাখ? ডাইনির মেয়ে যে? তোমাদের ছেলে পুলেদের বাপু সাবধানে রেখ, মিশতে দিয়নি  ওর সাথে।
অতসীর সঙ্গে ওদের গাঁয়ের কেউ মেশে না। তাতে ওর কিছু যায় আসে না। ওর বন্ধু বনের পশু পাখী আর তাদের ছানা পোনারা। ও বেঁজীর ছানা, শেয়ালের ছানাদের কোলে তুলে আদর করে।  এমনকি গাছ গাছড়া দের সঙ্গেও ঘুরে ঘুরে কথা বলে ও কে জানে নিজের মনে  কি বক বক 
করে ? গাছেরাও নাকি ওর সঙ্গে  কথা বলে ও যখন একটু বড় হ’ল, এক এক দিন ওর মা  ওকে ঘরে একা রেখে কাজে বেরিয়ে যেত।  বেরনর সময়  বলে যেত - “সাবধানে থাকবি, বনে জঙ্গলে বেশী টো টো করে ঘুরে বেড়াবি না”। অতসী ভাবে সাবধান আবার কার থেকে? ও তো আর গাঁয়ের দিকে যাচ্ছেনা ? ভয় তো সেখানেই যেখানে মানুষের বাস।বনের পশুরা তো ওর বন্ধু। তারা কাল যা  ছিল আজও তাই আছে। কিন্তু মানুষের বেলায় তা হয় না।কাল যে তোমার  বন্ধু  ছিল আজ সে বিনা কারনে ঝগড়া করতে পারে।  আর বনেই যদি না বেড়াল তাহলে আর ঘরে  থাকা কেন? সে সব দিন ও জলার  ধারে  গিয়ে চুপটি করে বসে থাকত। বসে বসে আকাশ পাতাল ভাবত।-কত হবে এই জঙ্গলের বয়স? কে বানাল এই সব গাছ পালা,পশু পাখী, জলা আর জলার  মাছেদের? মায়ের কাছে শুনেছে যে, আগে নাকি এখানে গ্রামটাম  কিছুই ছিল না। ছিল শুধু বিশাল  এক জঙ্গল। সে জঙ্গলে দিন মানেও আলো ঢুকত না।  নির্ভয়ে  ঘুরে বেড়াত রাজ্যের যত পশু পাখীর দল। ধীরে ধীরে মানুষের বসতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সে বন আর নেই। নেই সেই  সব পশু পাখীর দলও এমন কী দেখা যায় না সেই আগের মতো প্রজাপতি আর মৌমাছি দের ।  তারা সব কে কোথায় যে চলে গেছে কে জানে? দেখা মেলা ভার ধান ক্ষেতের মাছেদের ও। ওর মনে  পড়ে, ও যখন খুব ছোট ছিল, এক এক বর্ষার রাতে, ও আর ওর মা মিলে নালা থেকে কত রকম মাছ ধরেছে। কিন্ত এখন পোকা মারার বিষে আর বিদেশী মশলা সারে ধান ক্ষেতের সে সব মাছ লোপাট হয়ে গেছে। তাদের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গেছে অসংখ্য বক জাতীয় পাখি, যাদের একমাত্র  খাদ্য ছিল ক্ষেতের ওই সব মাছ আর পোকা মাকড়  
এই রকম চলতে থাকলে, দেশে একদিন একা মানুষ ছাড়া আর অন্য কোন প্রাণীর দেখা মিলবে না। কেমন হবে সে পৃথিবী?  তখন এদের ছাড়া দেশের মানুষ বাঁচবে তো? ভাবতেও ভয় করে ওর।
ছায়াঘন শান্ত শীতল জলার পাড়ে চুপটি করে  বসে প্রকৃতির লিলা খেলা দেখতে দেখতে এক সময় নিজেকে হারিয়ে ফেলত সেভারি ভাল্লাগত ওর, যখন দেখত ডাহুক কাদা খোঁচা আর বকেরা  দৌড়াদৌড়ি   করছে তাদের লম্বা লম্বা পা ফেলে। খঞ্জন আর ছাতারে পখী গুলো ল্যাজ দুলিয়ে নেচে নেচে বেড়াচ্ছে । ডেকে বেড়াচ্ছে ঘুঘু  হরিয়াল আর হাঁসেরা। গাছের ডালে উদাস হয়ে বসে থাকা একটা মাছরাঙা, হঠাৎ ঢিল পড়ার মতো  আছড়ে পড়ল জলের বুকে ডুবে ডুবে  খুঁটে তুলছে শামুক গুগলি,  লম্বা গলা কালো পানকৌড়ি গুলো হাওয়ায় দুলছে সবুজ টিয়ার ঝাঁক, নারকেল গছের সবুজ পাতায় বসে।  দূর থেকে ভেসে  আসছে কাঠ ঠোকরার একটানা ঠক্ ঠক্ শব্দ আর উদাস গলায় নিঃসঙ্গ কোকিলের ডাক। হঠাৎ কখনো বনভূমির নিস্তব্ধতা খান খান করে ভেঙ্গে তীক্ষ্ণ স্বরে  ডেকে উঠে ,সাদা মাথা সাদা বুক  শঙ্খচিল।  খেঁকশিয়ালী ছুটে যায়, মেটে খরগোসের পিছনে ধাওয়া করে। ঘোঁত ঘোঁত করে জলায় জল খেতে  আসে ছানা পোনা নিয়ে এক  পাল  বন শূকর। বেশ লাগত ওর সারাটা  দুপুর জলার ধারে বসে এসব  দৃশ্য দেখতে। তবে  সে সব এখন  অতীত। মা মারা যাবার পর ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই তাকে বের হতে হয় ঝোলা  কাঁধে, ঝুড়ি মাথায়, বেহালা হাতে গাঁয়ের পথে গঞ্জের হাট যেতে অনেকটা পথ হাঁটতে হয় , মাঝে আবার  পড়ে  দমদমার মাঠ । সে মাঠের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত দেখা যায় না।পেরুতে  লাগে পাক্কা একটি ঘণ্টা। বনের ঘুম ভাঙ্গে গাঁয়ের আগে আর তাদের সঙ্গে সঙ্গে অতসীরও ঘুম ভেঙ্গে যায়।                                                    ক্রমশ ঃ-